ঐতিহাসিক এই ছবিটি ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগের ছবি যা মহাবিশ্বের গভীরতম এবং পরিষ্কার ইনফ্রারেড ছবি।এইটি তুলেছেন জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
ঐতিহাসিক এই ছবিটি ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগের ছবি যা মহাবিশ্বের গভীরতম এবং পরিষ্কার ইনফ্রারেড ছবি।এইটি তুলেছেন জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
আধঘণ্টাও হয়নি, ঐতিহাসিক এ ছবিটি উন্মোচন করা হয়েছে। এ পোস্ট যখন লিখছি তখন বাংলাদেশে ভোর, তাই হয়তো বেশি মানুষ এটা পড়বার জন্য জেগে নেই। তবে আমার আগ্রহের টপিক, না লিখে কীভাবে থাকি!
ছবিটি খেয়াল করুন। কিছুক্ষণ আগে নাসার ফ্ল্যাগশিপ মিশনখ্যাত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (হাবল টেলিস্কোপের উত্তরসূরি) দ্বারা তোলা এ ছবিটি উন্মোচন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ ছবির বিশেষত্ব? আপনি তাকিয়ে আছেন ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগের সুদূর এক মহাবিশ্বের অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্যের দিকে, অবলোকন করছেন ছায়াপথগুচ্ছ। আরও বলি, এটি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের প্রথম ফুল-কালার ডিপ ফিল্ড ইমেজ, এবং সেই সাথে মানবজাতির ইতিহাসে দূর মহাবিশ্বের ডিপেস্ট ও শার্পেস্ট ইনফ্রারেড ইমেজ।
'ডিপেস্ট' বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? ডিপ ফিল্ড ইমেজ হলো যখন একটা অ্যাস্ট্রোনমিকাল ছবি তুলতে আকাশের নির্দিষ্ট একটি অংশে অনেক লম্বা সময় ধরে এক্সপোজার রাখা হয়। এ ছবির ক্ষেত্রে সেটা সাড়ে বারো ঘণ্টা। এবং এ তো কেবল শুরু। হাবল টেলিস্কোপ যেসব জ্যোতিষ্ক 'চোখে'-ই দেখতে পেত না, সেটাও অনায়াসে দেখতে পাচ্ছে জেমস ওয়েবের নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা। ছবিতে এটা Galaxy Cluster SMACS 0723।
এই পুরো ছবিটি মহাবিশ্বের বিশালত্বের তুলনায় ধুলিকণার সমানও নয়। নাসার ভাষায় বলতে গেলে, "This slice of the vast universe covers a patch of sky approximately the size of a grain of sand held at arm’s length by someone on the ground." জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মিশন হলো মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ছায়াপথগুলোর ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্যগুলো বের করা। জেমস ওয়েবের ১০ বছরের পরিকল্পিত মিশনের (আর ২০ বছর আশা করে রাখা মিশনের) আজ সবে ৬ মাস ১৬ দিন গেল।
বেশি উজ্জ্বল আর বড় স্পাইক যে কয়টা আছে হাতেগোণা, ওগুলো আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথ মানে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিরই প্রতিবেশী তারকা। বাদবাকি যত আলোকবিন্দু দেখতে পাচ্ছেন, সবই একেকটি ছায়াপথ, তারকা নয় কিন্তু! হাবল টেলিস্কোপও আকাশের এ অংশের ছবি তুলেছিল, জেমস ওয়েবের সাথে তার পার্থক্য কমেন্টে দেখে নিন!
আপনি যখন সূর্যের দিকে তাকান তখন ৮ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগের সূর্য দেখেন। কখনো বর্তমান সূর্য দেখতে পান না। কারণ আলো এসে পোঁছাতে ৮ মিনিট ১৮ সেকেন্ড লাগে আপনার কাছে। খুব সহজ করে বললে, এই ছায়াপথগুচ্ছ থেকে আলো এসে পৌঁছাতে ৪.৬ বিলিয়ন বছর মানে ৪৬০ কোটি বছর লেগেছে। (4600000000!) অবশ্যই, এত দূরের বস্তু ঝাপসা বা দেখার অযোগ্য থাকার কথা, কিন্তু এখানেই জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের জাদু।
দেখুন, অনেকগুলো ছায়াপথের ছবি কিছুটা কার্ভড হয়ে আছে, বেঁকে আছে। এটা হলো স্থান-কাল বক্রতা! জেনারেল থিয়োরি অফ রিলেটিভিটি অনুযায়ী, ছবির কেন্দ্রে থাকা ছায়াপথগুচ্ছের গ্র্যাভিটির কারণে স্পেস-টাইম কার্ভেচার (স্থান-কাল বক্রতা) দেখা যাচ্ছে।
আরেকটা মজার ব্যাপার খেয়াল করুন, এই ছায়াপথ গুচ্ছের সম্মিলিত ভর এত অকল্পনীয় রকমের বেশি যে, সেটি মহাকর্ষিক লেন্স হিসেবে কাজ করছে, আর সেই লেন্স দিয়ে আমরা পেছনের আরও দূরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু ম্যাগনিফাইড হয়ে উঠতে দেখছি। সেগুলোও একেকটি অদেখা ছায়াপথ! সেখানেও রয়েছে অগণিত গ্রহ উপগ্রহ।
কী ভয়ংকর বিশালত্ব এই মহাবিশ্বের!
[আমি জ্যোতির্বিদ নই, তাই সহজ করে লিখতে গিয়ে ভুল করতেও পারি। যদি আসলেই করি, তাহলে চোখে পড়লে শুধরে দেবেন। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবার অনুরোধ থাকলো।]
লিখা: আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ

No comments